
গ্রেপ্তার হওয়া চার নেতার নিঃশর্ত মুক্তি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা।
সোমবার ৫ অক্টোবর সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে যান আন্দোলনকারীরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
সমাবেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবুবকর সিদ্দিক বলেন, তাঁরা দেশ পরিচালনায় সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চান, অসহযোগিতা করতে চান না। তবে চার নেতাকে বিনা দোষে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এস এম আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আগামী তিন কার্যদিবস অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই চার নেতাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে অন্যায়ভাবে রিকশা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁদের অন্যান্য দাবিও রয়েছে। সরকার সেগুলো বিবেচনা করে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চার নেতাকে মুক্তি না দিলে যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, তা ঠেকানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের কারও আছে বলে তিনি মনে করেন না।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রিকশাচালক আসলাম মিয়া বলেন, দেশে গ্যাস, তেল ও পানির সংকট রয়েছে। এসব সমস্যার জন্য অটোরিকশাকে দায়ী করা যায় না। তাঁর ভাষ্য, আগের সরকারের সময়ে এমন পরিস্থিতি ছিল না এবং তখন পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ ছিল। পাশাপাশি তখন নিত্যপণ্যের দামও তুলনামূলক কম ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সবুজবাগ থানা-পুলিশ ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চার নেতাকে আটক করে। তাঁরা হলেন সবুজবাগ থানা কমিটির সভাপতি আকবর, তাঁর ছেলে ইয়াসিন, সেন্টু ও রহিম মহাজন।
এই চার নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদেই সোমবারের বিক্ষোভ ও ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম কর্মসূচি পালন করেন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা।



